শ্রদ্ধার্ঘ জ্ঞাপন

জন্মশতবর্ষে প্রবাদপ্রতিম ছাপাই চিত্রকর শ্রী হরেন দাস এর প্রতি আমার শ্রদ্ধার্ঘ। আমি ওনার কাছে নিয়মিত যেতাম ১৯৮১ সাল থেকে। উনি তখন গভর্নমেন্ট  আর্ট কলেজে অধ্যাপনা থেকে অবসর নিয়েছেন। তিনি আমার মতন ছাপাই চিত্র না জানা একটি ছাত্রকে ধৈর্য ধরে ছাপাই ছবির কাজ শেখাতেন। মাস্টারমশাইয়ের কাজ নিয়ে লেখার মতন ধৃষ্টতা আমার নেই। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, সেই জ্ঞানও আমার নেই। মানুষ হিসেবে বলতে পারি এই জীবনে অনেক শিল্পীকে কাছ থেকে দেখেছি কিন্তু মাস্টারমশাইয়ের মতন এমন ছাত্র-দরদী শিল্পী আমি দেখিনি।

 উনি চলে যাওয়াতে শিল্পজগতের যেমন ক্ষতি হয়েছে তেমনি আমার ব্যক্তিগত ক্ষতিও হয়েছে। আমি আমার একজন অভিভাবক কে হারিয়েছি।

পরিশেষে, আমি তাঁর সুযোগ্য পুত্র অধ্যাপক শ্রী চন্দন দাস এর প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি তাঁর বাবার মূল্যবান কাজ আমাদের দেখার সুযোগ করে   দিয়েছেন।

                                                                                                                                                                                                                                                                    -সুশান্ত চক্রবর্তী

ছবিগুলি বড় করে দেখার জন্য ছবির উপর Click করুন

 

“শতবর্ষের আলোকে শিল্পী হরেন দাস” – দেবব্রত চক্রবর্তী ( বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী ও কলা সমালোচক)


শতবর্ষের আলোকে প্রখ্যাত শিল্পী হরেন দাশকে  আর একবার দেখার চেষ্টা। আমরা যখন ১৯৬০ এর দশকের মধ্যবর্তী সময় কলকাতায় গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজের ছাত্র তখন মাস্টারমশাই হিসাবে ওনাকে আমরা পেয়েছিলাম। নিপাট ভালোমানুষ। সব সময় সাদা ধুতি পাঞ্জাবি পরতেন। শ্বেতশুভ্র পোশাকে ছোটখাটো চেহারার শ্যামবর্ণ মানুষটি ছিলেন অত্যন্ত স্নেহপ্রবণ। আমাদের লিনো-কাট ক্লাসের শিক্ষক ছিলেন। প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকে হাতে ধরে কাজ শেখাতেন। তখন আমরা বুঝতেই পারিনি এই সাধারণ চেহারার, সাধারণ পোশাকের মানুষটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একজন বিশিষ্ট ছাপচিত্রী। পরে যখন বড় হলাম তখন তার এই মহিমার কথা জানতে পারলাম। পরবর্তীকালে সংবাদপত্রে  শিল্প বিষয়ক লেখালেখি করার সময় আবার তাঁকে নতুনভাবে আবিষ্কার করলাম। সম্ভবত গত বছর হরেনবাবুর শিল্পীপুত্র চন্দন দাস তাঁর বাবার একটি পূর্বাপর প্রদর্শনীর আয়োজন করেন কলকাতার অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস এর সেন্ট্রাল গ্যালারিতে। এই প্রদর্শনীতে উপস্থিত হয়ে তাক লেগে যায় শিল্পী হরেন দাস কৃত সারিবদ্ধ চিত্রমালা দেখে। এই শিল্পীর প্রতিটি কাজের অন্তরঙ্গ অনুভব দর্শকের মনকে নাড়া দেয়। দেশজ ভাবনার ইতিবৃত্তে গড়ে উঠেছে ছবি শরীর। বাংলা নদ, নদী, গাছপালা, বাংলায় রমণী, দূরত্ব, ফেরিওয়ালা এমনকি এক পাগলিনীর ছবি দেখে থমকে দাঁড়াতে হয় দর্শকদের। অসামান্য ড্রয়িং, অভিনব কম্পোজিশন এবং বিষয় সন্ধানের বৈচিত্র্য দর্শকের মুগ্ধতাবোধে আঁচড় কাটে। চন্দ্রালোকিত  পরিবেশ বা গ্রাম্য জীবনের খুঁটিনাটি বা সংগীত মহড়ায় বিভিন্নতার চিত্রভাষা দর্শককে ঋদ্ধ করে। আলোছায়ার অনির্বাণ  রহস্যময়তায়, বাস্তবরীতির দক্ষতায় ছাপচিত্রের কারুকুশলতায় যা অবর্ণনীয়। এই না হলে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী হন? আমার অনুজ শিল্পীবন্ধু চন্দন দাস কে ধন্যবাদ জানাতেই হয় তার শুভ প্রচেষ্টায় অনেকটাই জানতে পেরেছিলাম শিল্পী হরেন দাশকে। শিল্পীর চিত্রভাষাকে। তাই এই শতবর্ষের প্রাক্কালে তাঁকে জানাই শ্রদ্ধার্ঘ। সর্বপরি তিনি ছিলেন আমাদের প্রিয় মাস্টারমশাই। 

“শিল্পী হরেন দাসঃ পূর্ণ ও শূন্যের দ্বৈত”  – মৃণাল ঘোষ ( বিশিষ্ট কবি ও কলা সমালোচক)


প্রখ্যাত ছাপচিত্রী হরেন দাস-কে (১৯২১-১৯৯৩) ১৯৪০- এর দশকে প্রতিষ্ঠাপ্রাপ্ত শিল্পী বলে গন্য করা যেতে পারে। তাঁর জন্ম ১৩২১ সালের ১লা মার্চ পশ্চিমবঙ্গের দিনাজপুর শহরে। তাঁর বাবা কার্ত্তিকচন্দ্র দাস। দিনাজপুর থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষা পাশ করে হরেন দাস কলকাতার সরকারি আর্ট স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৪৪ সালে চিত্রকলায় ডিপ্লোমা পাশ করেন। ১৯৪৬-এ তিনি টিচার্স ট্রেনিং কোর্স-এ শিক্ষা শেষ করেন। সেখানে ছাপচিত্রতেও বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন। আর্ট স্কুলে তিনি সার্বিকভাবে ছাপচিত্র বা গ্রাফিক আর্ট অনুশীলন করেছিলেন শিক্ষক রমেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী-র (১৯০২-৫৫) কাছে। রমেন্দ্রনাথ ছিলেন শান্তিনিকেতনে কলাভবনের এর ছাত্র। অসিত কুমার হালদার ও নন্দলাল বসুর কাছে তিনি চিত্রকলা শেখেন। লিথোগ্রাফি শেখেন সুরেন্দ্রনাথ করের কাছে। আদ্রে কারপেলের কাছে  কাঠখোদাই বা উডকাট- এর প্রশিক্ষণ নেন। ১৯২৯ সালে রমেন্দ্রনাথ কলকাতার সরকারি আর্ট স্কুলের শিক্ষক হিসাবে নিযুক্ত হন। এরপর ১৯৩৭ সাল নাগাদ লন্ডনের স্লেড স্কুলে চিত্র ও ছাপচিত্রে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন। হরেন দাস  কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ স্কুল ও রমেন্দ্রনাথের কাছে শিক্ষা গ্রহণের সূত্রে চিত্রকলার সেই সময়ে অনুশীলিত দুটি ধারার সঙ্গে যুক্ত হন। একটি স্বাভাবিকতাবাদী, রূপরীতি, অন্যটি প্রাচ্য ঐতিহ্যগত ধ্রুপদী সৌন্দর্যচেতনার আঙ্গিক। তার রচনায় এই দুইয়েরই সমন্বয় দেখা যায়। ১৯৪৭ সালে হরেন দাস তাঁর নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কলকাতার সরকারি আর্ট স্কুলে শিক্ষকতায় নিযুক্ত হন। এরপর ৩২ বছর তিনি ওখানেই ছাপচিত্রের অধ্যাপনা করেন। 

তাঁর ৭২ বছরের জীবনকালে হরেন দাস নিরলস ও নিরন্তর কাজ করে গেছেন। জীবনকালে পুরস্কার ও সম্মানও পেয়েছেন প্রচুর। তবু চল্লিশ বা পঞ্চাশের দশকে প্রতিষ্ঠা প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন শিল্পী হিসেবে তাঁর স্বীকৃতি খুব একটা ব্যাপক হতে পারেনি কখনোও। এর একটা কারণ কী হতে পারে এই যে ছাপচিত্রই ছিল তার প্রকাশের প্রধান মাধ্যম, আর আমাদের দেশে ছাপচিত্রের তেমন মর্যাদা নেই? অন্তরলীন বা ইন্তালিও পদ্ধতির কাজে তাঁর দক্ষতার কোন অভাব ছিল না, তবু তাঁর প্রতিভার শ্রেষ্ঠ স্ফুরণ ঘটেছে নতন্নত (রিলিফ) পদ্ধতির ছাপচিত্রে। বিশেষত কাঠখোদাইয়ের (উডকাট) কাজে আলোছায়ার অত্যন্ত বিদগ্ধ ও কবিত্বপূর্ণ বিন্যাসের মধ্য দিয়ে দৃশ্যের স্বাভাবিকতাকে তিনি যেভাবে আদর্শায়িত সৌন্দর্যে অভিষিক্ত করেছেন, তার তুলনা বিরল। তবু দীর্ঘদিন সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে তার যথেষ্ট পরিচিতি ছিল না। দিল্লির বিশিষ্ট নাট্য ও শিল্পব্যক্তিত্ব ইব্রাহিম আলকাজি তাঁর কাজ দেখে তাঁর প্রতিভা ও স্বকীয়তা অনুধাবন করতে পারেন। ১৯৮৩ তে তিনি এই শিল্পীর একটি পূর্বাপর প্রদর্শনীর আয়োজন করেন দিল্লীর আর্ট হেরিটেজ-এ। তাতে তাঁর পরিচিতি ও খ্যাতি কিছুটা প্রসারিত হয়। কিন্তু সেটাও খুব যথেষ্ট নয়। 

হরেন দাস ১৯৪০ এর দশকের শিল্পী। আমরা বলেছি আগে চল্লিশের শিল্পীর কতগুলি সাধারণ প্রবণতা আছে। সমাজচেতনাদীপ্ত প্রতিবাদী প্রবণতা এর প্রধান একটি বৈশিষ্ট্য। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে এই দশকটি নানা বিপর্যয় ও বহু আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঢেউ আমাদের দেশেও যথেষ্ট অভিঘাত সৃষ্টি করেছে। ১৯৪৩ এর মন্বন্তর এরই একটি ফলশ্রুতি। এছাড়া ১৯৪২ এর ভারতছাড়ো আন্দোলন, ১৯৪৬ এর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, ১৯৪৭ এর দেশভাগ, পরবর্তীকালের উদ্বাস্তুর মিছিল দেশকে বিপন্ন করেছে। এরই বিরুদ্ধে আর্তি ও প্রতিবাদ চল্লিশের শিল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য। আমরা পেয়েছি জয়নুল আবেদিন, চিত্তপ্রসাদ, সোমনাথ হোর, দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের মতো শিল্পী, দুর্ভিক্ষ যাঁদের প্রবলভাবে তাড়িত করেছিল। অন্যদিকে ক্যালকাটা গ্রুপের (১৯৪৩ – ১৯৫৩) সংঘবদ্ধতায় উঠে এসেছেন গোপাল ঘোষ, পরিতোষ সেন, প্রদোষ দাস গুপ্ত, গোবর্ধন আশ, সুনীলমাধব সেন, নীরদ মজুমদার, প্রাণকৃষ্ণ পাল প্রমুখ শিল্পী। প্রায় সকলেরই শিল্পের মূল প্রবণতা ছিল সমাজবাস্তবতা।

হরেন দাস এরকমই একটা আলোড়িত সময়ের মধ্যে অবস্থান করেও শিল্প ভাবনায় ছিলেন একেবারে অন্যরকম। দুর্ভিক্ষের , দারিদ্র্যের ছবি যে তিনি আঁকেন নি তা না। কিন্তু জীবনকে তিনি দেখতে চেয়েছিলেন সৌন্দর্যের দৃষ্টিকোণ থেকে। বাংলার প্রকৃতি, মানুষ, গ্রামীন জীবনধারা- এসবের অন্তরলীন বাস্তবতা তাঁর ছবির বিষয় হয়েছে। কিন্তু এই অভাবকে তিনি রিক্ততার দিক থেকে দেখেন নি, দেখেছেন সৌন্দর্যের দৃষ্টিকোণ থেকে। ধ্রুপদী ও রোমান্টিক – এই দুটি প্রবাহে যদি কাজ করা হয় আবহমানের শিল্পকে, তাহলে একটি ধারার অভিমুখ থাকে মানবতার পূর্ণতার দিকে, অলৌকিকতার দিকে; অন্য ধারায় প্রতিফলিত হয় মানবতার বিপন্নতা, হয়ে না উঠতে পারার দুঃখ ও প্রতিবাদী চেতনা। আমাদের দেশে নব্যভারতীয় ধারাকে যদি প্রথম প্রবণতার অন্তর্গত করা হয় তাহলে চল্লিশের শিল্পকলায় প্রতিভাত হয় দ্বিতীয় প্রবণতা।

শিল্পী হিসাবে হরেন দাস কে আমরা প্রথম প্রবণতার অন্তর্গত করে ভাবতে পারি। আঙ্গিকের দিক থেকে স্বাভাবিকতাবাদের সঙ্গে তিনি আদর্শায়িত সৌন্দর্যের সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। ছাপচিত্রের চরিত্র অনুযায়ী আলো- ছায়ার দ্বৈত হয়ে উঠেছিল তাঁর প্রকাশের প্রধান প্রবণতা। এই দ্বৈতের মধ্য দিয়েই ‘বারোক আর্ট’ সুলভ এক নাটকীয়তার উদ্ভাস ঘটত, যাতে থাকত পূর্ণ ও শূন্যের মধ্যে এক সমন্বয়। এই সমন্বয়ের মধ্য দিয়েই তিনি বাংলার জীবন প্রবাহের প্রাণকেন্দ্রটিকে ছুঁতে পেরেছিলেন।

                                                                                                                                                            

“নির্জন, স্বতন্ত্র শিল্পী শ্রী হরেন দাস” – সিদ্ধার্থ বসু ( বিশিষ্ট কবি ও শিল্পকলা ইতিহাসবিদ )

অধুনা প্রায় উপেক্ষিত, বিস্মৃত এক শিল্প মাধ্যম, যা’র উৎকর্ষতা আয়ত্ত করার জন্য প্রয়োজন একান্ত ও সুদীর্ঘ চর্চালব্ধ দক্ষতা, অপরিসীম অধ্যবসায়, নিরবচ্ছিন্ন শ্রম ও সময় –  সেই কাঠ খোদাই বা উড এনগ্রেভিং শিল্পের বাংলা তথা ভারতবর্ষের এক এবং সম্ভবত একমাত্র, সবিশেষ অগ্রগণ্য শিল্পী হরেন দাস। তাঁর জন্মশতবর্ষের প্রাক্কালে স্মরণীয়, তাঁর নির্জন একক শিল্পযাত্রার বিচ্যুতিহীন, ধারাবাহিক একাগ্রতা; বিংশ শতাব্দীর মধ্য থেকে প্রান্ত অবধি,  যখন শিল্পমাধ্যম রূপে পাশ্চাত্যরীতির জল রঙ ও তেল রঙে শিল্পচর্চার অধিক প্রচলন, সেই কাল পরিসরে তিনি উড এনগ্রেভিং, ইন্তাগ্লিও, লিথোগ্রাফ ও লিনোকাট যথা, নানা প্রকরণের ছাপাই ছবির পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মগ্ন থেকে এক তুলনারহিত স্বাতন্ত্র্য অর্জন করেছেন।

হরেন দাস ছাপাই ছবির নিবিষ্ট প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন কলকাতার গভর্নমেন্ট আর্ট স্কুলের রমেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে। রমেন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনের শিল্প শিক্ষার্থী রূপে, আঁদ্রেই  কার্পেল হজম্যান (Andree Karpeles Hogman) প্রাচ্য জাপানীধারার অনুসারী যিনি, তাঁর নিকটে ছাপাই ছবির করণকৌশলের পাঠ লাভ করেন। পরবর্তীকালে বিলেতের স্লেড স্কুল অফ আর্ট-এ আধুনিক পাশ্চাত্য ছাপাই ছবির পুরোধা টমাস বেউইকের (Thomas Bewick) ধারার ছাপাই ছবির চর্চার সঙ্গে পরিচিত হন। কলকাতার ছাপ-ছবির চিত্রকরেরা বেউইক- প্রবর্তিত ব্রিটিশ একাডেমিক ধারায় কাজ করতেন। এই ধারার লক্ষণ মূলতঃ বাস্তবানুগ ও স্বাভাবিকতাবাদী চিত্রণে ও উপস্থাপনায়, যার অন্যপ্রান্তে ছিল শান্তিনিকেতনের জাপানি শিল্পীদের অনুসৃত চিত্র-বিষয়বস্তুর পরিশীলিত (Stylized) উপস্থাপনা। রমেন্দ্রনাথের ছাত্র হরেন দাস মুখ্যত কলকাতার আর্ট স্কুলের ধারা অনুসারী আজীবন শিল্প চর্চা করেছেন।

 প্রাক ও উত্তর স্বাধীনতার দাঙ্গা-দুর্ভিক্ষ-দেশভাগ জনিত সামাজিক বিপর্যয়ের ঘাত-প্রতিঘাতের প্রত্যক্ষ চিত্র, হরেন দাস এর ছবিতে দুর্লক্ষ্যতার অর্থ এই নয় যে, সমসাময়িক শুভ-অশুভ পরিবর্তনশীলতা তাঁর শিল্পী চেতনাকে স্পর্শ, আলোড়িত করেনি; বরং তাঁর সহজাত অন্তর্মুখীনতা তাঁকে চালিত করেছিল এক বিকল্প, সমান্তরাল সৌন্দর্যের অন্বেষণে। সেই অমলিন, ক্ষয়হীন, চিরকালীন সৌন্দর্য জগত তিনি পেয়েছিলেন, অবিভক্ত বঙ্গের দিনাজপুরে শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতিসঞ্চিত, গ্রাম বাংলার উন্মুক্ত ও অবারিত প্রকৃতি ও সহজ সরল শ্রমজীবি মানুষজনদের চিত্রণে। নিজের অনুভূতি ও বোধের প্রতি বিশ্বস্ত থেকে তিনি নিজস্ব নিভৃত এক চিত্রভাষা গঠন করেছিলেন।

 ভারতবর্ষের ছাপাই ছবির ভুবনে হরেন দাস, অন্য ধারা ও পদ্ধতির কাজ ব্যতিরেকে, রঙিন, বহুবর্ণ, কাঠ খোদাই ছবি সমূহের জন্য এক চিরস্থায়ী অনন্যতা অর্জন করেছেন। একাধিক কাঠ-খন্ড থেকে ছাপগ্রহণ পদ্ধতিতে (Multi- Block method) অঙ্কিত ‘পায়রার বাসা’ (১৯৫৬), ‘ছিপ ফেলা’ (১৯৫১), বা ‘পুরীর সৈকতে নুলিয়ারা’ (১৯৬২) তাঁর প্রখর স্বাক্ষরশৈলী ও শিল্প মাধ্যমে তাঁর প্রশ্নাতীত দক্ষতার উজ্জ্বল নিদর্শন। তাঁর অগণন সাদাকালো কাঠখোদাই ছবিতে আলোছায়ার সুষম, মায়াবী উপস্থাপনা আমাদের আবিষ্ট করে। সমান উল্লেখযোগ্যতার দাবি রাখে তার লিনোকাট, লিথোগ্রাফ ও এচিং মাধ্যমের ছবির সমাহার। যেমন ‘রামলীলা’ (১৯৫২), ‘গম্ভীরা’ (১৯৬০),  ‘গ্রামীণ উৎসব’ (১৯৬৬), এইসব ধাতুতক্ষণের কাজগুলির আনুপুঙ্খতার কী আশ্চর্য পরিস্ফুটন!

বিলম্বিত হলেও, এই প্রবাদপ্রতিম ব্যতিক্রমী শিল্পীর জীবৎকালে ও লোকান্তরে, সমকালে ও যুগান্তরে স্বীকৃতি ও সমাদর অনিবার্য।

HAREN DAS : The Pioneer of the Print Making in India – Subrata Ghosh ( Eminent Artist)

“Modernity is a way of relating the material and cultural worlds in a period of unprecedented change that we call modernization. It is also an ontological quest with its particular forms of reflexivity, its acts of struggle.”  (“When was modernism”- Geeta Kapur).

 

The pedagogical practice of the art education was introduced to the Government Art School (Govt. College of Arts and Crafts at present) by Haveil and Abanindranath. That practice had influenced the artists of Bengal and other provinces for some decades.  Atul Bose and his followers had influenced many artists whose art work used to be made out of their deep observational studies and the formal elements. Ignoring the burden of the traditional values of the Bengal School Atul Bose’s school taught the art students not to be overwhelmed by the dramatic events in work of art. He and his followers even produced the work without any ornamental representation. This schooling opened up a significant way towards Indian modern art which occasionally got overlooked. 

Haren Das was an ideal example artist of this genre of Bose’s schooling.  He was apprenticed under Ramendranath Chakraboarty and continued his journey with his belief. Das became famous for his print making at the time when this particular medium was not popular among the Indian art lovers.  Haren Das had a poetic vision through which he tried to depict the essence of Bengal.  Though Bengal was going through a very critical phases including nationalist movements, famine, communal riots and so many political upheavals during 1940 to 1960. But Haren Das hardly reacted to those situations through his most of the art works except some example of the working class of the society. His fellow friends Somnath Hore, Safiuddin Ahmed or Muralidhar Tali produced graphics and paintings where that crisis of the society became the main theme. Haren can be rather analogised with the great poet  Jeebananada Das from the  post Tagore era. Jeebananada’s  ‘Rupashi Bangla’ (Pretty Bengal) is quite visible in many of Haren’s works.  Haren was able to establish himself as a creator of tranquillity. That silence could create peace in us. The peace could be found in our neighbourhood, in our shabby rural land or in our own little hut. This was another way of revolt against that violent world.

Haren Das was quite aware of the contemporary art movement in India and in abroad.  Though by nature he was a shy and introvert, but got connected with the main stream of Bengali intellectuals. He used to be associated with Bishnu Dey, Buddhadeb Basu , Samar Sen and Chittoprasad.  Haren kept himself away from the direct politics (Marxism used to attract most of the literature and creative people during that time) and the direct artistic influences from the western world (unlike Calcutta Group).  He rather was inspired by the Japanese ‘ukiyo – e’ masters Hokusai and Hiroshige. His works like ‘The seaside’, ‘The Pigeons Home’, ‘The Evening Light’’, The End of Toil’ and many more can be compared with those great Japanese masters’ works.  The detailed features and tonal variations have created the highest point of aesthetic value in his works. The minimalistic arrangement of his compositions also went beyond any limitation of illustrative approaches.

Haren’s works neither required any common social theme nor any imposed shadow of western master to lift up its status. Are not those works full of pure visual elements filtered from his surroundings? If we look at the ‘Graphic’ qualities of his works, we could sense a subtle flow of avant-garde logic from the Bauhaus school all over.  The timeless principles of Bauhaus design still hold up and to this day the iconic Bauhaus style inspires graphic designers all over the world. The school encouraged the embrace of modern technologies in order to succeed in a modern environment. The most basic tenet of the Bauhaus was ‘form follows function’. Haren Das was able to reflect this ethos in his works, but in his own manner, in own visual language. His works welcome viewers with a benign soul, rather than overpower them like a chauvinist. Haren Das’s works need to be re-examined at this moment once again. The reason is to find the missing link of modernity in his work in comparison to so called modern masters from Bengal in his time.

                                                                                                                                                                                                             

[pvcp_1]